বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর একের পর এক ধাক্কার সম্মুখীন তৃণমূল। ইতিমধ্যেই দলে বড়সড় ফাটলের ছবি সামনে এসেছে। বুধবার কার্যত দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে জোড়াফুল শিবির। এবার কলকাতা পুরসভার (KMC) মেয়র পদ ছাড়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করলেন ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)। এমনটাই জানাচ্ছেন কুণাল ঘোষ।
কলকাতার মেয়র পদ ছাড়ছেন ফিরহাদ (Firhad Hakim)!
রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই কলকাতা পুরসভায় ডামাডোল পরিস্থিতি চলছিল। কিছুদিন আগে ইস্তফা দেন অরূপ চক্রবর্তী, দেবলীন বিশ্বাস ও সুশান্ত ঘোষ। এরপর মঙ্গলবার সেই পথে হাঁটেন মেয়র পারিষদ তারক সিং। এই ঘটনাগুলির রেশ কাটতে না কাটতেই সামনে এল ফিরহাদের পদত্যাগ সংক্রান্ত খবর। জানা যাচ্ছে, ইতিমধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ববির ইস্তফায় সম্মতি দিয়েছেন।
এই বিষয়ে বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, “আমাদের দলনেত্রীর কাছে বহুবার ইস্তফার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছিলেন ফিরহাদ হাকিম। শেষ দিন আমিও ছিলাম। সেদিন কথা হয়। উনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে কাজ করা যাচ্ছে না”।
আরও পড়ুনঃ ফর্ম ফিল আপে বসলেই হল না! অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদনে কী কী লাগবে? ঝটপট জানুন
এখানেই না থেমে এদিন নবান্নের প্রশাসনিক সভার প্রসঙ্গ টেনে আনেন কুণাল। তৃণমূল বিধায়ক বলেন, “প্রশাসনিক সভায় হওয়া আলোচনাতেও বলা হয়েছে কার্যকর নয়, কাজ করা যাচ্ছে না। ফলে বিধায়কদের পরামর্শ নিয়ে কাজ করবে কমিশনার। অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিগত কিছুদিনের পরিস্থিতি বলেন ফিরহাদ হাকিম। সবদিক বিচার বিবেচনা করে, ফিরহাদ হাকিমের কোনও অমর্যাদা যাতে না হয়, তাঁর সম্মান রক্ষার্থে মেয়র পদ থেকে ইস্তফার অনুমতি দিয়েছেন আমাদের দলনেত্রী”।
এদিকে জানা যাচ্ছে, মিউনিসিপ্যাল আইন অনুসারে এবার কলকাতা পুরসভার কমিশনার অথবা চেয়ারপার্সনের কাছে অফিশিয়ালি ইস্তফা দিতে হবে ফিরহাদকে। ববি এই কাজ কখন করেন আপাতত সেদিকে নজর সকলের।

প্রসঙ্গত, এদিনই রাজ্যে তৃণমূলের সব কমিটি ও এর শাখা সংগঠনের বিলুপ্তি ঘোষণা হয়েছে। সর্বস্তরে আত্মবিশ্লেষণ, কর্মদক্ষতা পর্যালোচনা ও সাংগঠনিক মূল্যায়নের ফলাফলের ভিত্তিতে দল ও সব শাখা সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠন ও ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে জোড়াফুল শিবির। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সামনে এল ফিরহাদের পদ ছাড়ার ইচ্ছাপ্রকাশের খবর।













