বঙ্গের অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ধাঁচে সুদুর মার্কিন মুলুকেও মিলবে অনুদান! ভোটের আগে বড় প্রতিশ্রুতি ট্রাম্পের

Published on:

Published on:

Following the model of Bengal's 'Annapurna Bhandar', grants will provide money in USA.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: আমেরিকার (America) মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বাংলার অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের (Annapurna Bhandar) ধাঁচে বড়সড় আর্থিক প্রতিশ্রুতি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। রিপাবলিকান পার্টি যদি আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারে, তা হলে দেশের প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি। পুরুষ-মহিলা নির্বিশেষে এই অর্থ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ট্রাম্প এই প্রস্তাবের নাম দিয়েছেন ‘ট্রাম্প ডিভিডেন্ড’। ফলে বাংলার ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এর মতো সরাসরি আর্থিক সহায়তার সঙ্গে এই ঘোষণার তুলনা টানা শুরু হয়েছে। যদিও এটি এখনও একটি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি, বাস্তবে তা কীভাবে কার্যকর হবে, তার বিস্তারিত পরিকল্পনা সামনে আসেনি।

বঙ্গের অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের (Annapurna Bhandar) ধাঁচে সুদুর মার্কিন মুলুকেও মিলবে অনুদান!

ডালাসে বুধবার একটি নির্বাচনী প্রস্তুতি সভায় গিয়ে সমর্থকদের উদ্দেশে এই ঘোষণা করেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য, রিপাবলিকানরা যদি সেনেট এবং হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস—দুই কক্ষেই জয় পায়, তা হলে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিকের হাতে পৌঁছবে ৫ হাজার ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় যার মূল্য প্রায় ৪ লক্ষ ৭৭ হাজার টাকা। ট্রাম্পের কথায়, রিপাবলিকানদের জয় শুধু দলের জয় নয়, সাধারণ আমেরিকানদেরও জয়। সেই কারণেই এই অর্থকে তিনি দলের সাফল্যের ‘লভ্যাংশ’ হিসেবে তুলে ধরেছেন। এমনকি সমর্থকদের তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, ব্যালট পেপারে তাঁর নাম না থাকলেও যেন তাঁকে সামনে রেখেই ভোট দেন (Annapurna Bhandar)।

আরও পড়ুন: BARC থেকে শুরু করে ISRO-র পরীক্ষায় সফল! UPSC-তেও বাজিমাত, চমকে দেবে IAS সুরভির কাহিনি

তবে এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই উঠছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এত বিপুল অর্থ আসবে কোথা থেকে? একটি হিসাব অনুযায়ী, আমেরিকায় প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের সংখ্যা প্রায় ২৪ কোটি ৫০ লক্ষ। প্রত্যেককে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়া হলে সরকারের সম্ভাব্য খরচ দাঁড়াতে পারে ১ লক্ষ কোটি ডলারেরও বেশি। অর্থাৎ এটি কোনও ছোটখাটো আর্থিক প্রকল্প নয়, বরং বিশাল অঙ্কের সরকারি ব্যয়ের বিষয়। কিন্তু এই অর্থের সংস্থান কী ভাবে হবে, সে বিষয়ে ডালাসের সভায় নির্দিষ্ট কোনও রূপরেখা দেননি ট্রাম্প। শুধু তাঁর দাবি, আমেরিকার কাছে প্রচুর অর্থ রয়েছে। ফলে প্রতিশ্রুতিটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে যেমন আলোচনা শুরু হয়েছে, তেমনই অর্থনীতিবিদদের মধ্যেও প্রশ্ন উঠছে এর বাস্তবায়ন নিয়ে।

আগামী ৩ নভেম্বর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত হবে মধ্যবর্তী নির্বাচন। এই ভোটে হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসের ৪৩৫টি আসনেই নির্বাচন হবে। পাশাপাশি সেনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতেও ভোটগ্রহণ হবে। বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও যথেষ্ট চাপের মধ্যে রয়েছে। ইরান যুদ্ধ এবং মূল্যবৃদ্ধির মতো ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনকে নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে। তাঁর জনপ্রিয়তার হারও কমে প্রায় ৩৩ শতাংশে নেমে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে। একাধিক প্রাক্-নির্বাচনী সমীক্ষায় আবার ডেমোক্র্যাটদের তরফে রিপাবলিকানদের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত মিলেছে।

Following the model of Bengal's 'Annapurna Bhandar', grants will provide money in USA

আরও পড়ুন: চিনের দুর্লভ খনিজের দিকে নজর ভারতের! মোদী-জিনপিং বৈঠকেই হবে বড় চুক্তি?

এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের ৫ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতিকে নিছক আর্থিক প্রকল্প হিসেবে দেখছেন না রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। তাঁদের মতে, ভোটের আগে সাধারণ মানুষের হাতে সরাসরি অর্থ পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি জনমত প্রভাবিত করার একটি বড় রাজনৈতিক অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার খরচ নিয়ে যখন আমেরিকানদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে, তখন এমন ঘোষণা ভোটারদের একাংশকে আকৃষ্ট করতে পারে। তবে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন এবং তার উৎস এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে ‘ট্রাম্প ডিভিডেন্ড’ শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী চমকেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি সত্যিই আমেরিকার নাগরিকদের হাতে পৌঁছবে ৫ হাজার ডলার—সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের (Annapurna Bhandar)।