বাংলা হান্ট ডেস্ক : কলকাতা হাইকোর্টে সোমবারের শুনানিতে প্রত্যাশিত স্বস্তি পেলেন না ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়(Abhishek Banerjee)। একই দিনে তাঁর দুটি পৃথক আবেদনের ক্ষেত্রে আদালতের অবস্থান স্পষ্ট হয়ে যায়। একটি ছিল ডিজে মন্তব্য সংক্রান্ত মামলায় কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের নির্দেশ নিয়ে, অন্যটি চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতির আবেদন দ্রুত শোনার আর্জি। দু’ক্ষেত্রেই তাৎক্ষণিক কোনও রেহাই মেলেনি।
হাইকোর্টের স্বস্তি পেলেন না অভিষেক (Abhishek Banerjee)
ডিজে মন্তব্য ঘিরে দায়ের হওয়া মামলায় তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে অভিষেকের ভয়েস স্যাম্পল সংগ্রহের অনুমতি আগেই দিয়েছিল বিধাননগর আদালত। সেই নির্দেশ কার্যকর করতে মঙ্গলবার তাঁকে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। প্রসঙ্গত, বিধানসভা ভোটের প্রচারে তিনি বলেছিলেন, ৪ মে ফল প্রকাশের পর রবীন্দ্রসঙ্গীতের সঙ্গে ডিজে বাজবে। ওই বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই সল্টলেকে সাইবার অপরাধের অভিযোগ দায়ের হয় এবং পরে তদন্তভার নেয় সিআইডি।
বিধাননগর আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন অভিষেক। তাঁর পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে আইনজীবী বলেন, “ডিজে বাজানো নিয়ে মন্তব্যটি তাঁর। তিনি তা স্বীকার করছেন।” সেই যুক্তির ভিত্তিতে আদালতের কাছে প্রশ্ন তোলা হয়, যখন বক্তব্যের মালিকানা নিয়ে কোনও বিতর্ক নেই, তখন আবার কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের প্রয়োজন কেন।
পাশাপাশি আবেদন করা হয়েছিল, মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তদন্তকারী সংস্থা যেন তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর ব্যবস্থা না নেয়। তবে সেই আবেদন গ্রহণ করেনি আদালত। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ জানান, মঙ্গলবার নির্ধারিত সময়েই অভিষেককে কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, মামলার পরবর্তী শুনানিও তাঁর এজলাসেই হবে।
এদিন আরেকটি মামলাতেও অভিষেকের পক্ষে কোনও ইতিবাচক নির্দেশ আসেনি। চোখের চিকিৎসার প্রয়োজনে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চেয়ে দায়ের করা মামলার দ্রুত শুনানির আবেদন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের আদালতে ওঠে। কিন্তু বিচারপতি স্পষ্ট করেন, মামলাটি নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ীই শুনানি হবে, আলাদা করে জরুরি ভিত্তিতে তা নেওয়া হবে না।
উল্লেখ্য, বিদেশে চিকিৎসার আবেদন দ্রুত শোনার জন্য এটি ছিল তাঁর দ্বিতীয় চেষ্টা। এর আগে ২৪ জুনও একই ধরনের আবেদন করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেবারও আদালত দ্রুত শুনানির অনুমতি দেয়নি। ফলে সোমবারের শুনানির পর দুটি পৃথক মামলাতেই আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে হচ্ছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে।