বাংলাহান্ট ডেস্ক : কম খরচে দূরপাল্লার সফরের জন্য রেলপথই (Indian Railways) সবথেকে বেশি জনপ্রিয় মাধ্যম। সাধ্যের মধ্যে সাধারণ খরচের ক্ষেত্রে ট্রেন সবথেকে সহজ। তাই যেকোনো উৎসব পার্বণে, ছুটির দিনে ট্রেনের টিকিটের চাহিদা থাকে তুঙ্গে। এবার দুর্গাপুজোর টিকিট কাটতে গিয়েই গলদঘর্ম হয়েছেন অনেকে। খুব কম মানুষই সফল হয়েছেন টিকিট পেতে।
চাহিদার সময় ওয়েটিং লিস্ট (Indian Railways) লম্বা
চাহিদার তুলনায় আসন সংখ্যা কম থাকায় ওয়েটিং লিস্ট ছাড়িয়ে যায় ৫০০। শুধু তাই নয়, টিকিট বুকিংয়ের সময় বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বা মোবাইল অ্যাপে টিকিট কনফার্ম হওয়ার যে সম্ভাবনা দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রে সেটাও মেলে না বাস্তবে। তবে রেলের অভ্যন্তরীণ হিসেব দেখলে, ওয়েটিং লিস্ট কনফার্ম হওয়ার নেপথ্যে একটি সমীকরণ রয়েছে।

কীভাবে আসন যায় ওয়েটিং লিস্টে: এমনিতে স্বাভাবিক সময়ে গড়ে প্রায় ২১ শতাংশ যাত্রী টিকিট কাটার পর নানান কারণে টিকিট বাতিল করে থাকেন। রেলের নিয়মানুযায়ী, বাতিল হওয়া আসনগুলিতে ওয়েটিং লিস্টে থাকা যাত্রীদের পরপর স্থান দেওয়া হয়। প্রতি ট্রেনে গড়ে প্রায় ৪-৫ শতাংশ যাত্রী আগাম টিকিট কেটে রাখলেও কোনও কারণে যাত্রা বাতিল করে দেন বা স্টেশনে পৌঁছাতে পারেন না। ওই ফাঁকা আসনগুলিও ওয়েটিং লিস্টের তালিকায় থাকা যাত্রীদের ভাগ্যে যায়। রেলের এমার্জেন্সি কোটার কোনও অংশ অব্যবহৃত থাকলেও চার্ট তৈরির সময় সেই আসনগুলিও ওয়েটিং লিস্টে থাকা যাত্রীরা পান।
আরও পড়ুন : ট্রেনেও অটো আপগ্রেড, স্লিপারের খরচে সফর করুন এসিতে, এই নিয়ম জানা থাকলেই হল
জেনে রাখুন হিসেব: উল্লেখ্য, ট্রেনের একটি স্লিপার কোচে মোট ৭২ টি আসন থাকে। এবার টিকিট বাতিলের ২১ শতাংশ এবং অনুপস্থিতির ৪-৫ শতাংশ মিলিয়ে দেখা যায় অতিরিক্ত ১৮ টি আসন খালি থেকে যায় স্লিপার কোচে। অর্থাৎ একটি দূরপাল্লার ট্রেনে ১০ টি স্লিপার কোচ যুক্ত থাকলে হিসেব অনুযায়ী, সব মিলিয়ে প্রায় স্লিপার ক্লাসের (Indian Railways) প্রায় ১৮০ জন ওয়েটিং লিস্টে থাকা যাত্রীর টিকিট কনফার্ম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে উৎসব বা ছুটির সময় টিকিট বাতিল বা যাত্রা না করার হার অনেকটা কমে যায়। তাই এই সময় ওয়েটিং লিস্ট কনফার্ম হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।
আরও পড়ুন : জোড়া বন্দে ভারতের সময় বদল, কোন ট্রেন কখন ছাড়বে দেখে নিন
ব্যস্ত সময়ে টিকিট নিশ্চিত করতে কিছু টিপস জেনে রাখুন। রেলের নিয়মানুযায়ী, দূরপাল্লার ট্রেনের টিকিট যাত্রার দিন থেকে ৬০ দিন আগে সকাল ৮ টা নাগাদ বুকিংয়ের জন্য উন্মুক্ত হয়। তাই সকাল আটটা বাজার প্রথম ১৫ মিনিটের মধ্যেই টিকিট কেটে নিতে পারলে কনফার্ম আসন পাওয়ার সম্ভাবনা ৯৯ শতাংশ থাকে। জনপ্রিয় রুটগুলির ভরসায় না থেকে বিকল্প রুট বা সংযোগকারী ট্রেনের সাহায্য নিতে পারেন।













