বাংলাহান্ট ডেস্ক: মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ভারত–বাংলাদেশ (Bangladesh) সম্পর্ক প্রত্যাশিত মাত্রায় এগোতে পারেনি—এ কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করলেন বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকের উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। বৃহস্পতিবার ঢাকায় এক বিদায়ী বক্তব্যে তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকার বরাবরই ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চেয়েছিল এবং সেই প্রয়োজনীয়তার কথাও তারা উপলব্ধি করত। তবে বাস্তবে নানা কারণে সেই সম্পর্ক ধাক্কা খেয়েছে বলেই মেনে নেন তিনি।
ইউনূস আমলে ভারত–বাংলাদেশ (Bangladesh) সম্পর্কের অবনতির কথা স্বীকার:
বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষের পথে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, যার পর নতুন সরকার গঠিত হবে। তার আগেই বিদেশ মন্ত্রকে সাংবাদিকদের সঙ্গে একটি বিদায়ী মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তৌহিদ হোসেন। সেখানে ভারত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তা নিয়ে কোনও দ্বিমত নেই। তবে তাঁর মতে, দুই দেশই নিজ নিজ জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ফলে অনেক ক্ষেত্রেই মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব সরাসরি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে পড়েছে।
আরও পড়ুন: আধার ব্যবহারকারীদের জন্য বড় খবর! অ্যাপে এক ক্লিকেই আপডেট হবে নাম, ঠিকানা সহ যাবতীয় তথ্য
তৌহিদ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘‘আমরা ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক চাইছিলাম, কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি। সম্পর্ক অনেক জায়গায় থমকে গিয়েছে। আমি কাউকে দোষ দিতে চাই না। ভারত তাদের স্বার্থ দেখেছে, আমরা আমাদের স্বার্থ দেখেছি। এই স্বার্থের ফারাক থেকেই বিভিন্ন বিষয়ে এগোনো সম্ভব হয়নি।’’ তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে কূটনৈতিক স্তরে সম্পর্ক মসৃণ রাখা কঠিন হয়ে উঠেছিল।
আসন্ন নির্বাচনের পর নতুন সরকার দায়িত্ব নিলে ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক নতুন করে গতি পাবে বলে আশাবাদী তৌহিদ হোসেন। তাঁর কথায়, ভবিষ্যৎ সরকার ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের সুযোগ পাবে। তিনি বলেন, ‘‘যে কোনও দেশের সঙ্গেই কিছু না কিছু সমস্যা থাকেই। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে মসৃণ সম্পর্ক বজায় রাখা খুব জরুরি। আমাদের সময়ে সেই মসৃণতা ছিল না, এটা আমি স্বীকার করছি। অনেক বাধা এসেছে।’’

আরও পড়ুন: দৈনিক ৫০ টাকায় কারখানায় করতেন কাজ! কঠোর পরিশ্রমে সরকারি আধিকারিক হয়ে স্বপ্নপূরণ পবনের
এ প্রসঙ্গে উঠে আসে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিষয়টিও। ২০২৪ সালের ৫ অগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে ভারতে চলে যান। তাঁর প্রত্যর্পণ চেয়ে একাধিক বার নয়াদিল্লিকে চিঠি পাঠিয়েছে ঢাকা। এই বিষয়টি ভবিষ্যতে ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে অন্তরায় হবে কি না, সে প্রশ্নে তৌহিদ আশাবাদী সুরেই বলেন, ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখা প্রয়োজন। তাঁর মতে, ‘‘এই সমস্যারও নিশ্চয়ই কোনও সমাধানসূত্র বেরোবে। আমরা অনুরোধ জানিয়েছিলাম, জবাব পাইনি। এর বেশি ভেবে নেওয়া ঠিক হবে না।’’












