বাংলাহান্ট ডেস্ক : লিভ ইন সম্পর্ক নিয়ে নজিরবিহীন পর্যবেক্ষণ আদালতের (High Court)। লিভ ইন সম্পর্কে থাকা মহিলা সঙ্গীদের কিছু কিছু আইনি সুরক্ষা পাওয়া উচিত, এমনটাই জানিয়েছে মাদ্রাজ হাইকোর্ট। এমনকি কোনও কোনও ক্ষেত্রে লিভ ইন সঙ্গীকে সমান আইনি মর্যাদা দিতে হবে বলেও জানান হাইকোর্টের বিচারপতি। একত্রবাসকে প্রাচীন কালের গান্ধর্ব বিবাহের সঙ্গে তুলনা করে এমন মন্তব্য করে আদালত।
লিভ ইন সম্পর্ক নিয়ে মন্তব্য হাইকোর্টের (High Court)
তামিলনাড়ুর তিরুচিরাপল্লীর এক যুবকের লিভ ইন সঙ্গী অভিযোগ করেছিলেন, সম্পর্কে থাকাকালীন একাধিকবার তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেছিলেন যুবক। দিয়েছিলেন বিয়ের প্রতিশ্রুতি। কিন্তু পরে তিনি সম্পর্ক ভেঙে দেন। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই আগাম জামিন চেয়ে মাদ্রাজ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন যুবক।

কী বলল আদালত: মামলার শুনানিতে বিচারপতি এস শ্রীমতী বলেন, ভারতীয় সমাজে লিভ ইন সম্পর্ক একটি ‘সাংষ্কৃতিক ধাক্কা’। তবে এটি এখন ব্যাপক ভাবে প্রচলিত। মহিলারা বর্তমানে নিজেদের আধুনিক মনে করে লিভ ইন সম্পর্কে যান। তারপর বুঝতে পারেন যে এতে বিয়ের মতো আইনি সুরক্ষা নেই।
আরও পড়ুন : ধরা পড়লেই ৫ বছরের জেল! চলন্ত ট্রেনে পাথর ছোঁড়ায় রাশ টানতে স্টেশনে বড় পদক্ষেপ রেলের
প্রাচীন শাস্ত্রে উল্লেখ: এরপরেই প্রাচীন ভারতীয় ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে আদালত (High Court) বলে, হিন্দুশাস্ত্রে আটটি বিবাহ রীতিতে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে গান্ধর্ব বিবাহ অন্যতম। কোনও নিয়ম না মেনে শুধুমাত্র নারী পুরুষের সম্মতির ভিত্তিতেই সেই বিবাহ হত। বর্তমানের লিভ ইন সম্পর্ককে তেমন ভাবে দেখা যেতে পারে।
আরও পড়ুন : ভোটের আগেই নিয়োগ সারার লক্ষ্যমাত্রা, একাদশ-দ্বাদশের সুপারিশপত্র কবে থেকে?
তবে মহিলাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে আদালতকেই। তাই বিচারপতির মতে, লিভ ইন সম্পর্কে যেহেতু কোনও আইনি বাধ্যবাধকতা থাকে না। তাই অনেক পুরুষ এর সুযোগ নিয়ে থাকেন। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৯ ধারা উল্লেখ করে বিচারপতি জানান, মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস করা অপরাধ। কোনও পুরুষ এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরে পিছিয়ে আসতে চাইলে তিনি পার পেতে পারেন না। তাই লিভ ইন সম্পর্কে থাকা মহিলা সঙ্গীকে আইনি সুরক্ষা দেওয়ার দরকার বলে পর্যবেক্ষণ আদালতের।












