বাংলা হান্ট ডেস্ক : কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের (Government Employees) বেতন কাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা ঘিরে জোরদার হয়েছে আলোচনা। অষ্টম বেতন কমিশনের (8th Pay Commission) চূড়ান্ত সুপারিশ এখনও সামনে আসেনি। তার আগেই কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের বিভিন্ন সংগঠনের প্রস্তাব ঘিরে নতুন করে আশার আলো দেখা দিয়েছে। দাবি উঠেছে, বেতন বৃদ্ধির হার এবং ডিএ-র নিয়মে পরিবর্তন আনা গেলে বর্তমান সময়ের তুলনায় অনেক দ্রুত বাড়তে পারে কর্মীদের আয়।
অষ্টম বেতন কমিশনে (8th Pay Commission) বেতন নিয়ে বড় প্রস্তাব
বর্তমান বেতন কাঠামোয় কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরিতে লেভেল-১ কর্মীদের বেসিক পে শুরু হয় ১৮ হাজার টাকা থেকে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছর মূল বেতনের উপর ৩ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হয়। ফলে বেতন বৃদ্ধির গতি তুলনামূলক ধীর। বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, ১৮ হাজার টাকা থেকে বেসিক পে ২৩,৪৮৬ টাকায় পৌঁছতেই প্রায় এক দশক সময় লেগে যায়।
কর্মচারী সংগঠনগুলির বক্তব্য, অষ্টম বেতন কমিশন যদি শুধুমাত্র নতুন করে বেসিক পে নির্ধারণ করে, তাহলে সমস্যার পুরো সমাধান হবে না। বরং নিয়মিত ইনক্রিমেন্টের হার এবং ডিএ বৃদ্ধির পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। এই কারণেই কমিশনের কাছে বিভিন্ন সংগঠনের তরফে একাধিক প্রস্তাব জমা পড়েছে।
বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা বেসিক পে-র পাশাপাশি ডিএ, HRA এবং TTPA-সহ একাধিক ভাতা পান। ডিএ এবং HRA-র সঙ্গে মূল বেতনের সংযুক্তির নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। ডিএ ৫০ শতাংশে পৌঁছলে সেটিকে বেসিক পে-র সঙ্গে যুক্ত করার ব্যবস্থা রয়েছে।
কর্মচারী সংগঠনগুলির একাংশ চাইছে, নতুন বেতন কমিশনের সময় এই কাঠামোও পুনর্বিবেচনা করা হোক। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭ শতাংশ করা উচিত। একইসঙ্গে ডিএ ২৫ শতাংশে পৌঁছলেই সেটিকে মূল বেতনের সঙ্গে যুক্ত করার নিয়ম চালু করার দাবি উঠেছে। এই দুই পরিবর্তন কার্যকর হলে কর্মীদের মোট আয় বৃদ্ধির গতি অনেকটাই বাড়তে পারে। সংগঠনগুলির হিসাব অনুযায়ী, তখন সাত বছরের মধ্যেই বেতন দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

আরও পড়ুন : শিশুর আধার আপডেট এবার একেবারে বিনামূল্যে! এই তারিখ পর্যন্ত মিলবে সুযোগ
এখনও পর্যন্ত অষ্টম বেতন কমিশন এই প্রস্তাবগুলির কোনওটিকে চূড়ান্ত ভাবে গ্রহণ করেছে বলে ঘোষণা করেনি। পর্যবেক্ষক মহলের অনুমান, ২০২৭ সালের মে-জুন নাগাদ অর্থ মন্ত্রকের কাছে কমিশনের চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা পড়তে পারে। সেই রিপোর্টেই জানা যাবে বেতন বৃদ্ধি, ডিএ এবং ভাতা নিয়ে শেষ পর্যন্ত কী সুপারিশ করা হচ্ছে। কর্মচারী সংগঠনগুলির দাবি যদি কমিশনের সুপারিশে জায়গা পায় এবং কেন্দ্র তা মেনে নেয়, তাহলে বর্তমান ব্যবস্থার তুলনায় অনেক দ্রুত বেতন বৃদ্ধির পথ খুলতে পারে।













