বাংলা হান্ট ডেস্কঃ পদক্ষেপ নিয়েছে ED। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর (Sujit Bose) বিরুদ্ধে পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় চার্জশিট জমা দিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। ED-এর অভিযোগ, এই মামলায় প্রায় ২৫০ কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন হয়েছে। সুজিত বসু ছাড়াও তাঁর ছেলে সমুদ্র বসু-সহ আরও কয়েকজনের নাম রয়েছে এই চার্জশিটে।
সুজিত বসুর (Sujit Bose) বিরুদ্ধে কী অভিযোগ ED-এর?
ED-এর দাবি, পুরসভার চাকরি দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার ঘটনায় সুজিত বসুর (Sujit Bose) বড় ভূমিকা ছিল। চার্জশিটে তদন্তকারী সংস্থা অভিযোগ করেছে, সুজিত বসু প্রায় ২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তদন্তকারীদের দাবি, সুজিত বসু টাকার বিনিময়ে ৩৪০ জন চাকরিপ্রার্থীর নাম সুপারিশ করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে ২৮৪ জন চাকরির নিয়োগপত্র পেয়েছেন। প্রতি চাকরির জন্য গড়ে প্রায় ৬ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ ED-এর।
এই মামলায় শুধু সুজিত বসু (Sujit Bose) নন, তাঁর ছেলে সমুদ্র বসু, দুটি বেসরকারি সংস্থা এবং পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের অধীন ডিরেক্টরেট অফ লোকাল বডিজ-এর প্রাক্তন অধিকর্তা জ্যোতিষ্মান চট্টোপাধ্যায়কেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। ED-এর অভিযোগ, জ্যোতিষ্মান চট্টোপাধ্যায় তাঁর সরকারি পদ ব্যবহার করে এই দুর্নীতিতে সাহায্য করেছিলেন এবং আর্থিক সুবিধাও পেয়েছিলেন।
কীভাবে সামনে আসে পুর নিয়োগ দুর্নীতির বিষয়টি?
শিক্ষা ক্ষেত্রে নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত করতে গিয়েই পুরসভাগুলির চাকরি সংক্রান্ত অনিয়মের খোঁজ পান ED আধিকারিকরা। তদন্তের সময় সল্টলেক এবং হুগলিতে অয়ন শীলের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকে পুরসভায় নিয়োগ সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার হয় বলে দাবি ED-এর।
তদন্তে জানা যায়, অয়ন শীলের সংস্থা পুরসভাগুলির নিয়োগ পরীক্ষার কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিল। পরীক্ষার প্রশ্ন তৈরি থেকে শুরু করে OMR শিট তৈরির দায়িত্বও ওই সংস্থার ছিল বলে অভিযোগ। তল্লাশির সময় চাকরির সুপারিশ সংক্রান্ত কিছু নথিও পাওয়া যায়। সেই নথিতে ‘এসবি’ লেখা কিছু কাগজ উদ্ধার হয়েছিল বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।
দক্ষিণ দমদম পুরসভার নিয়োগ নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন
তদন্ত এগোতে গিয়ে দক্ষিণ দমদম পুরসভার নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে। সেই সময় ওই পুরসভার উপ পুরপ্রধান ছিলেন সুজিত বসু (Sujit Bose)। এই ঘটনায় ED-এর পাশাপাশি সিবিআইও তদন্ত শুরু করে। পুরসভার তৎকালীন চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে বেশ কয়েকজন কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ED-এর দাবি, সুজিত বসুর সুপারিশ করা ৪০ জনের নথি তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। এছাড়া তাঁর ঘনিষ্ঠ নিতাই দত্তের বয়ান থেকেও চাকরি দেওয়ার নামে টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
সুজিত ও তাঁর ছেলের আর্থিক লেনদেন নিয়েও তদন্ত
তদন্তের সময় সুজিত বসু এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ED-এর অভিযোগ, তল্লাশিতে কয়েকটি নির্মাণ সংস্থা এবং সুজিত বসুর (Sujit Bose) ছেলের ধাবা ও রেস্তরাঁর কিছু আর্থিক লেনদেন সন্দেহজনক বলে মনে হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, কোভিডের সময় ওই রেস্তরাঁ ব্যবসায় কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল। সেই টাকার উৎস নিয়ে সুজিত বসু ও তাঁর ছেলে সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি বলে অভিযোগ ED-এর।

আরও পড়ুনঃ অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ মামলায় স্বস্তিতে কালীঘাট তৃণমূল! টাকা ব্যবহার নিয়ে বিরাট নির্দেশ হাইকোর্টের
এরপর নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর ১১ মে CGO কমপ্লেক্সে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর সুজিত বসুকে (Sujit Bose) গ্রেফতার করা হয়। এর আগে এই মামলায় অয়ন শীলের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দিয়েছিল ED। এবার সুজিত বসু-সহ অন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রায় ১২ হাজার ৫০০ পাতার নথি আদালতে জমা দিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।













