ভোটের মুখে ‘ফ্রি’ রাজনীতি! রাজ্যগুলির আর্থিক শৃঙ্খলা নিয়ে কড়া সুপ্রিম কোর্ট

Published on:

Published on:

Supreme Court Dismisses Plea Challenging Logical Discrepancy in West Bengal SIR
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভোটের আগে হঠাৎ করে ‘বিনামূল্যে’ প্রকল্প ঘোষণা করা কতটা যুক্তিযুক্ত, সম্প্রতি এই প্রশ্নেই সরব হল দেশের শীর্ষ আদালত সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। আর্থিক পরিকল্পনা ছাড়া বিপুল ভর্তুকির বোঝা নেওয়া যে দায়িত্বজ্ঞানহীনতার সামিল হতে পারে, তা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। বিদ্যুৎ ভর্তুকি সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করে আদালত।

কী নিয়ে আপত্তি আদালতের (Supreme Court)?

বৃহস্পতিবারের শুনানিতে বিশেষ করে তামিলনাড়ু সরকারকে প্রশ্ন করা হয়, কেন শেষ মুহূর্তে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ প্রকল্প ঘোষণা করা হল। আদালতের (Supreme Court) মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্তে বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থাগুলিকে হঠাৎ করেই শুল্ক নির্ধারণ ও বাজেটের হিসেব নতুন করে সাজাতে হচ্ছে। এতে প্রশাসনিক অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে। আদালত আরও জানায়, এইসব ভর্তুকির ফলে উন্নয়নমূলক খাতে অর্থ বরাদ্দ কমে যেতে পারে। সরকারের সব খরচ যদি বিনামূল্যে পরিষেবা দেওয়াতেই চলে যায়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে তার প্রভাব পড়বে রাজ্যের অর্থনীতিতে।

কারা শুনানি করলেন?

এই মামলার শুনানি হয় প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির বেঞ্চে। তামিলনাড়ু বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা একটি রিট আবেদনে বিদ্যুৎ সংশোধনী বিধির একটি ধারাকে চ্যালেঞ্জ জানায়। সেই মামলার শুনানিতেই এই পর্যবেক্ষণ উঠে আসে।

আদালতের বক্তব্য, যদি ভর্তুকির সিদ্ধান্ত আগেভাগে জানানো হত, তা হলে বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থাগুলি শুল্ক নির্ধারণ ও আর্থিক পূর্বাভাসে তা অন্তর্ভুক্ত করতে পারত। কিন্তু হঠাৎ ঘোষণা হওয়ায় নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে এবং সিদ্ধান্তগ্রহণে স্বেচ্ছাচারিতার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। বিচারপতিরা এ-ও জানান, বহু রাজ্য ইতিমধ্যেই আয়-ব্যয়ের ঘাটতিতে ভুগছে। সেই অবস্থায় বড়সড় ভর্তুকি চালু করলে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ব্যাহত হতে পারে।

SIR petitioner faces rebuke from Supreme Court!

আরও পড়ুনঃ NRS হাসপাতালে চোরের দাপট! ধরেও ছাড়া হচ্ছে? পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সিনিয়র আইনজীবী গোপাল সুব্রামানিয়াম কে প্রশ্ন করেন, বিদ্যুতের সম্পূর্ণ খরচ সরকার বহন করা আদৌ জনস্বার্থে কিনা। সরাসরি নগদ সহায়তা দিলে মানুষ কাজ করার আগ্রহ হারাতে পারে কি না, সেই প্রশ্নও তোলা হয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ, বিষয়টি শুধু তামিলনাড়ুতে সীমাবদ্ধ নয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নির্বাচনের আগে আচমকা জনকল্যাণমূলক প্রকল্প ঘোষণার প্রবণতা বাড়ছে। এর ফলে অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা কতটা প্রভাবিত হচ্ছে, তা নিয়েই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশের শীর্ষ আদালত (Supreme Court)।