নগদ নয়, এবার ডিজিটাল পথে তারাপীঠ! দানের টাকা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জমা হবে ব্যাঙ্কে

Published on:

Published on:

Tarapith Temple Goes Digital Donation Money to Reach Bank Within 24 Hours
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ তারাপীঠ মন্দিরের (Tarapith temple) দানের টাকা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের মাঝেই বড় সিদ্ধান্ত নিল নবগঠিত মন্দির কমিটি। সম্প্রতি একসঙ্গে প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যাঙ্কে জমা পড়ার পর মন্দিরের আর্থিক লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সেই পরিস্থিতিতে স্বচ্ছতা বাড়াতে এবার দানের টাকা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যাঙ্কে জমা করা এবং ধাপে ধাপে ডিজিটাল লেনদেন চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তারাপীঠ মন্দিরের (Tarapith temple) তহবিল নিয়ে কড়া আর্থিক নিয়ম

সম্প্রতি মন্দির কমিটির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে একসঙ্গে প্রায় আড়াই কোটি টাকা জমা পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়। অভিযোগ উঠেছিল, দীর্ঘদিন ধরে মন্দিরে (Tarapith temple) জমা হওয়া দানের অর্থ নিয়মিতভাবে ব্যাঙ্কে জমা করা হচ্ছিল না। সেই বিতর্কের আবহেই আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ফেরাতে একের পর এক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিভিন্ন তহবিলের জন্য আলাদা আলাদা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হবে। ফলে প্রতিটি খাতের আয় ও ব্যয়ের হিসাব পৃথকভাবে রাখা সম্ভব হবে। বর্তমানে মন্দিরের তহবিলের জন্য পাঁচটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে।

শুধু ব্যাঙ্কে টাকা জমার নিয়মই নয়, মন্দিরের (Tarapith temple) আর্থিক লেনদেনও ধাপে ধাপে ডিজিটাল করা হবে বলে জানা গিয়েছে। হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থাকে ডিজিটাল রূপ দিতে নতুন কর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে অসমাপ্ত পড়ে থাকা মন্দির কমিটির অফিস নির্মাণের কাজও দ্রুত শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কমিটির দাবি, ভবিষ্যতে বড় অঙ্কের সব আর্থিক লেনদেন চেকের মাধ্যমে করা হবে। শুধুমাত্র ছোটখাটো দৈনন্দিন খরচের ক্ষেত্রেই নগদ ব্যবহার করা হবে। এর ফলে প্রতিটি লেনদেনের নথিভুক্ত রেকর্ড থাকবে এবং হিসাব নিয়ে কোনও বিভ্রান্তির সুযোগ কমবে।

উল্লেখ্য, অভিযোগ ছিল গত প্রায় ১৫ বছর ধরে মন্দিরে (Tarapith temple) জমা হওয়া দানের টাকা নিয়মিতভাবে ব্যাঙ্কে জমা করা হয়নি। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর গঠিত নতুন মন্দির কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আর্থিক স্বচ্ছতার ওপর জোর দিচ্ছে। কমিটির সভাপতি হয়েছেন হাঁসন কেন্দ্রের প্রাক্তন বিজেপি প্রার্থী নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সম্পাদক সেবাইত পুলক চট্টোপাধ্যায়।

আরও পড়ুনঃ পুর নিয়োগ দুর্নীতিতে বড় মোড়, সুজিত বসু ও ছেলের বিরুদ্ধে ED-এর চার্জশিটে কী কী অভিযোগ?

পুলক চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ব্যাঙ্কিং সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ডিজিটাল লেনদেন চালুর প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। সেই কাজের জন্য নতুন কর্মী নিয়োগ করা হবে এবং মন্দির (Tarapith temple) কমিটির অফিসের অসমাপ্ত কাজও দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।