বাংলা হান্ট ডেস্ক: আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এখন সরাসরি বিশ্বব্যাপী তেল বাজারে প্রভাব ফেলছে। বৃহস্পতিবার, গত সেপ্টেম্বরের পর প্রথমবারের মতো ব্রেন্ট ক্রুডের (Crude Oil) দাম ব্যারেল প্রতি ৭০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকির পর দামের এই তীব্র বৃদ্ধি দেখা গেছে।
দাম বাড়ছে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil):
ব্রেন্ট এবং WTI-এর দাম তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে: লন্ডনের বাজারে ব্রেন্ট নর্থ সি ক্রুডের দাম ২.৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৭০.০৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন বেঞ্চমার্ক, ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটও (WTI) ২.৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৬৪.৮২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উত্তেজনা বাড়লে দাম আরও বাড়তে পারে।

ইরানের ব্যাপারে ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান: ইতিমধ্যেই ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম, ট্রুথ সোশ্যাল-এ একটি পোস্টে, জানিয়েছেন যে, ইরানের অবিলম্বে তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার জন্য এগিয়ে আসা উচিত। তিনি লিখেছেন যে, যেকোনও চুক্তি এমন হতে হবে যাতে পারমাণবিক অস্ত্র জড়িত না থাকে এবং সকল পক্ষের জন্য ন্যায্য হয়। ট্রাম্প সতর্ক করে জানান যে, ইরান যদি আলোচনা না করে, তাহলে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে উঠতে পারে।
ইরানের হুঁশিয়ারি: এদিকে, ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি স্পষ্টভাবে আমেরিকাকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, কোনও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে ইরান দ্রুত এবং কঠোরভাবে জবাব দেবে। যার ফলে সামগ্রিকভাবে ওই অঞ্চলে সংঘাতের সম্ভাবনা আরও বেড়েছে।
আরও পড়ুন: ৫ বছরে ৩,৯০০ শতাংশের বৃদ্ধি! বিনিয়োগকারীদের মালামাল করল এই স্টক, দাম মাত্র এত টাকা
তেল সরবরাহ প্রভাবিত হতে পারে: মার্কেট এক্সপার্ট ড্যারেন নাথান জানিয়েছেন, যদি আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হয় সেক্ষেত্রে ইরানের দৈনিক প্রায় ৩ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপাদন প্রভাবিত হতে পারে। এছাড়াও, বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়া তেল ও গ্যাস ট্যাঙ্কারগুলির চলাচল ব্যাহত হতে পারে।
আরও পড়ুন: ভারতীয় রেলে ঘটল ২০ বছরের পুরনো ঐতিহ্যের অবসান! নেওয়া হল বড় সিদ্ধান্ত
ভবিষ্যতে দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনা: বিশেষজ্ঞরা অনুমান করেছেন যে বাজারে বর্তমানে আশঙ্কার আবহ বিরাজ করছে। বাকযুদ্ধ তীব্রতর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিনিয়োগকারীরা তেলকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে দেখছেন। এই কারণেই ব্রেন্ট ক্রুড ৪ মাসের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। এদিকে, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে, আগামী দিনে পেট্রোল ও ডিজেলের দামের ওপর চাপ বাড়তে পারে বলেও অনুমান করা হচ্ছে।












