বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতের দিন্দিগুলের বিখ্যাত থালাপ্পাকাট্টি বিরিয়ানির নাম হয়তো শুনেছেন অনেকেই, কিন্তু এই বিরিয়ানির ব্র্যান্ডটি বিখ্যাত করার নেপথ্যে যাঁর হাত রয়েছে আজ তাঁর সাফল্যের কাাহিনির (Success Story) কথা বলব। এই ঐতিহ্যবাহী ব্র্যান্ডের আধুনিক রূপান্তরের পাশপাশি দীপিকা নাগাস্বামী এখন সম্পূর্ণ নতুন এক ক্ষেত্রে নিজের ছাপ রেখে চলেছেন। খাদ্য ব্যবসায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জনের পর তিনি সৌন্দর্য ও ত্বক পরিচর্যার জগতে প্রবেশ করেছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত স্কিনকেয়ার স্টার্টআপ ‘ডিপসি’ ইতিমধ্যেই উদ্যোক্তা মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। ব্যবসায়িক দূরদর্শিতা, উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা এবং নিজের উপর অগাধ বিশ্বাসের জোরে দীপিকা প্রমাণ করেছেন যে সাফল্যের সীমারেখা কেবল একটি ক্ষেত্রেই আটকে থাকে না।
দীপিকা নাগাস্বামীর অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story):
দীপিকার বেড়ে ওঠা কোনো ধনী ব্যবসায়ী পরিবারে নয়। তাঁর বাবা ছিলেন একজন পুলিশ কর্মকর্তা এবং মা ছিলেন গৃহিণী। সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের নিয়মানুবর্তী পরিবেশেই শৈশব ও কৈশোর কেটেছে তাঁর। ফ্যাশন এবং টেক্সটাইল নিয়ে পড়াশোনা শেষ করার পর তাঁর বিয়ে হয় বিখ্যাত থালাপ্পাকাট্টি পরিবারের সদস্য সতীশের সঙ্গে। একটি সাধারণ পরিবার থেকে দেশের অন্যতম পরিচিত ব্যবসায়িক পরিবারের অংশ হয়ে ওঠা সহজ ছিল না। নতুন পরিবেশ, নতুন দায়িত্ব এবং বড় ব্যবসার জগৎ—সবকিছুই ছিল তাঁর কাছে নতুন অভিজ্ঞতা। তবে শ্বশুরবাড়ির সদস্য এবং স্বামীর উৎসাহ ও সমর্থন তাঁকে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছিল। সেই সমর্থনকে পাথেয় করেই তিনি ধীরে ধীরে ব্যবসার জগতে নিজের অবস্থান তৈরি করতে শুরু করেন (Success Story)।
আরও পড়ুন: ১৮০ দিনের মধ্যে সারতে হবে এই কাজ! বিদেশিদের জন্য ভারতের ইমিগ্রেশন নিয়মে বড় পরিবর্তন
স্বামী সতীশের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে দীপিকা থালাপ্পাকাট্টির মার্কেটিং টিমে যোগ দেন। সেখানে তিনি শুধু প্রচলিত ব্যবসায়িক ধারা অনুসরণ করেননি, বরং ব্র্যান্ডটির ভাবমূর্তিতেই আমূল পরিবর্তন আনেন। আগে বিরিয়ানির দোকানগুলিকে সাধারণত পুরুষদের আড্ডাস্থল বা শুধুমাত্র পার্সেল কাউন্টার হিসেবে দেখা হতো। পরিবার নিয়ে সেখানে যাওয়ার প্রবণতা খুব একটা ছিল না। দীপিকার উদ্যোগে সেই ধারণা বদলে যায়। তিনি থালাপ্পাকাট্টিকে একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন এবং পরিবার-বান্ধব রেস্তোরাঁ চেইনে রূপান্তরিত করেন। নারী, শিশু এবং পরিবারের জন্য আরামদায়ক পরিবেশ তৈরির ফলে ব্র্যান্ডটির জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়তে থাকে। বর্তমানে এই ব্যবসার বার্ষিক রাজস্ব ৫০০ কোটির টাকারও বেশি বলে জানা যায়।
শুধু ব্যবসার সম্প্রসারণ নয়, কর্মক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতায়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন দীপিকা। রেস্তোরাঁ শিল্পকে দীর্ঘদিন ধরে পুরুষ-প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে দেখা হলেও তিনি সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। তাঁর কর্পোরেট ইউনিটে বর্তমানে ৮০ থেকে ৯০ জন নারী গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। এমনকি গভীর রাত পর্যন্ত ক্যাশ কাউন্টার পরিচালনার মতো দায়িত্বও তাঁরা নিরাপদ পরিবেশে সামলাচ্ছেন। কর্মক্ষেত্রে নারীদের জন্য সমান সুযোগ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দীপিকার এই উদ্যোগ কর্পোরেট মহলে প্রশংসিত হয়েছে। অনেকের মতে, তিনি শুধু একজন সফল ব্যবসায়ী নন, বরং একজন সামাজিক পরিবর্তনের পথপ্রদর্শকও।
খাদ্য ব্যবসায় সফলতার (Success Story) পর দীপিকা নিজের অভিজ্ঞতাকে নতুনভাবে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর বিশ্বাস, যে উপাদান আমাদের শরীরের জন্য উপকারী, তা ত্বকের জন্যও কার্যকর হতে পারে। এই চিন্তা থেকেই জন্ম নেয় স্কিনকেয়ার ব্র্যান্ড ‘ডিপসি’। ব্যবসা শুরু করার আগে তিনি যুক্তরাজ্যের একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান থেকে অ্যাডভান্সড কসমেটিক ফর্মুলেশন বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেন। এরপর বাজারে আনেন তাঁর প্রথম পণ্য ‘মল্লি মল্লি’। ধনে পাতা এবং ম্যাঙ্গো বাটারের মতো প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি এই হালকা ময়েশ্চারাইজার দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করে। ব্যস্ত জীবনযাপনের মানুষের কথা মাথায় রেখে তৈরি এই পণ্য মাত্র কয়েক মিনিটে বহু ধাপের স্কিনকেয়ার রুটিনের সমতুল্য সুবিধা দেওয়ার দাবি করে।

আরও পড়ুন: ঘুম উড়ল রাজ্য সরকারি কর্মীদের! জুন থেকেই নয়া নিয়ম, নির্দেশ নবান্নের
একটি পরিচিত ব্যবসায়িক পরিবারের সদস্য হওয়া সত্ত্বেও দীপিকা কখনও শুধু পারিবারিক পরিচয়ের উপর নির্ভর করেননি। বরং নিজের দক্ষতা, অধ্যবসায় এবং উদ্ভাবনী চিন্তার মাধ্যমে তিনি একের পর এক সাফল্য (Success Story) অর্জন করেছেন। বিরিয়ানির সাম্রাজ্যকে আধুনিক রূপ দেওয়া থেকে শুরু করে নতুন স্কিনকেয়ার ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠা—প্রতিটি পদক্ষেপেই তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে সাহসী সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতের পথ তৈরি করতে পারে। আজ দীপিকা নাগাসামি শুধু একজন সফল উদ্যোক্তা নন, তিনি দেশের অসংখ্য তরুণী এবং নারী ব্যবসায়ীর কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।













